ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। অথচ ২০১৯-২০ অর্থবছরে সংস্থাটির মোট ভর্তুকির পরিমাণ ছিল মাত্র ৮২ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২০ সালে করোনা অতিমারির পর স্বল্প আয়ের মানুষকে সহায়তায় সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রির পরিমাণ বাড়ায় টিসিবি। তাই ভর্তুকির পরিমাণও বেড়েছে। তা ছাড়া সংস্থাটির নিজস্ব তহবিল না থাকায় ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে এসব পণ্য বেচাকেনা বাড়তি ভর্তুকির অন্যতম কারণ।

২০২২ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে টিসিবির পণ্য বিক্রি বাবদ ১ হাজার ৬২৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ভর্তুকির প্রস্তাব সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, এক কোটি পরিবারকে খাদ্য সহায়তার কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য এবং বাজারে বছরব্যাপী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন এবং মূল্যস্তর স্থিতিশীল ও সহনীয় রাখার জন্য বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা অনুযায়ী টিসিবি সয়াবিন তেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা, পেঁয়াজ আমদানি ও স্থানীয় পর্যায়ে ক্রয় করে থাকে।
এতে আরও বলা হয়, নিজস্ব তহবিল না থাকায় পণ্য সংগ্রহ করার জন্য টিসিবি রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির বিপরীতে ব্যাংক থেকে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ গ্রহণ করেছে। বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশক্রমে কোনো কোনো সময় স্থানীয় বাজার থেকে পাইকারি দরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পণ্য কেনা হলেও ২ শতাংশ আয়কর পরিশোধ এবং প্রতি কেজি বা লিটারে ৫ থেকে ৭ টাকা ডিলারদের পরিচালন ব্যয় দিতে হয়। আবার বাজারদর এবং ক্রয়মূল্য থেকে কম দামে এসব পণ্য ভোক্তার কাছে বিক্রি করায় সার্বিক ভর্তুকি বেড়ে যায়।
প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়, ছয় মাসে ১ হাজার ১০৫ কোটি টাকায় ৯৩ হাজার ৬৪০ টন মসুর ডাল কিনে ভোক্তাদের কাছে ৫৬৮ কোটি টাকা বিক্রি করেছে টিসিবি। কম দামে বিক্রি করায় এ ক্ষেত্রে ভর্তুকি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩৭ কোটি টাকা। একইভাবে ১ হাজার ৮৫৯ কোটি টাকায় ৯ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার লিটার সয়াবিন তেল কিনে ৯৯৭ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। তাই তেলে ভর্তুকি দিতে হয়েছে ৮৫২ কোটি টাকার কিছু বেশি। ৪৪১ কোটি টাকায় ৪৬ হাজার ৯১ টন চিনি আমদানি করে ২৩৪ কোটি টাকা বিক্রি করা হয়েছে। অর্থাৎ চিনিতে ২০৭ কোটি টাকা ভর্তুকি গুনতে হয়েছে।
এ ছাড়া প্রায় ৪৪ কোটি টাকায় ৯ হাজার ৫২২ টন পেঁয়াজ কিনে ভোক্তাদের কাছে ১৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকায় বিক্রি করায় এতে ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে এ চার পণ্য কিনতে টিসিবির খরচ হয় ৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। আর এসব পণ্য বিক্রি করে আয় হয় ১ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা। বাকি ১ হাজার ৬২৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ভর্তুকি হিসেবে দিতে হবে। ব্যাংকের দায় পরিশোধে যত দ্রুত সম্ভব এ অর্থ ছাড় করার অনুরোধ জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এখনও এ অর্থ ছাড় করা হয়নি।
টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সংস্থাটির ভর্তুকির পরিমাণ ছিল মাত্র ৮২ কোটি ১৯ লাখ টাকা। তবে ২০২০-২১ অর্থবছরে তা পাঁচ গুণের বেশি বেড়ে দাঁড়ায় ৪৩১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এর পর থেকেই ক্রমান্বয়ে ভর্তুকি বেড়ে চলেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে টিসিবির মুখপাত্র মো. হুমায়ূন কবির বলেন, এক সময়ে নির্দিষ্ট পণ্যে বাজারের চাহিদার ১ থেকে ২ শতাংশ বিক্রি করা হতো। এর পর ২০১৯-২০ থেকে ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত তা ১০ শতাংশে উন্নীত করা হয়। পরে বাজার চাহিদার প্রায় ২৫ শতাংশ কার্যক্রম টিসিবির মাধ্যমে চালানো হয়। এ কারণেই ভর্তুকিও ক্রমান্বয়ে বেড়েছে। বর্তমানে টিসিবির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হওয়ায় আগামীতে ভর্তুকি আরও কিছুটা বাড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, টিসিবির নিজস্ব কোনো তহবিল না থাকায় সংস্থাটিকে ব্যাংক ঋণে কার্যক্রম চালাতে হয়। এতে ভর্তুকির প্রায় ৩০ শতাংশই চলে যায় ঋণের সুদ পরিশোধে। এটিও ভর্তুকি বাড়ার অন্যতম কারণ।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.
































Recent Comments