বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeঅর্থনীতিসুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের প্রত্যাশা ছিল: কিন্তু তা হলো না
spot_img
spot_img

সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের প্রত্যাশা ছিল: কিন্তু তা হলো না

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি থেকে প্রত্যাশা ছিল তুলনামূলক বেশি। কেননা বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, জাতীয় নির্বাচনের আগে মোটাদাগে সংস্কার হবে না। নির্বাচন তো হয়ে গেছে। কিন্তু নতুন মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ডলার সংকট এবং আর্থিক খাতের ভঙ্গুরতা– এ তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। প্রতিটি ক্ষেত্রে মুদ্রানীতিতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের প্রত্যাশা ছিল। শুধু নীতি সুদহার খানিকটা বাড়ানো ছাড়া উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক একদিকে নীতি সুদহার বা রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়েছে, অন্যদিকে স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি বা এসএলএফ একই হারে কমানো হয়েছে। এর মানে একদিকে সংকোচন, অন্যদিকে সম্প্রসারণের পদক্ষেপ। এর ফলে বাজারে মিশ্র বার্তা যেতে পারে।

নীতি সুদহার কমানোর উদ্দেশ্য হলো মূল্যস্ফীতি কমানো। কিন্তু স্মার্ট রেট এবং করিডোরে (বাজারে সুদহার নির্ধারণের পদ্ধতি) কোনো পরিবর্তন না আনায় বাজারে সুদের হারে এর প্রভাব পড়তে দেরি হতে পারে। কারণ, স্মার্ট রেটের হিসাব হয় ছয় মাসের গড় ট্রেজারি বিলের গড় সুদের ভিত্তিতে। এখন রেপোর রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানোর ফলে স্মার্ট রেটের ওপর প্রভাব কতটুকু পড়বে, তা দেখার বিষয়। সব মিলিয়ে জুন নাগাদ মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অবশ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মুদ্রানীতির বাইরে রাজস্ব নীতি ও বাজার ব্যবস্থাপনার ভূমিকা রয়েছে।

ডলার সংকট নিরসনে গত মুদ্রানীতি ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছিল, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে মুদ্রার বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করা হবে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক তা করেনি। নতুন মুদ্রানীতিতে ওই ভাবনা পরিবর্তনের কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। আইএমএফের পরামর্শে ‘ক্রলিং পেগ’ নামে বিনিময় হার ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কোন ফর্মুলায় কোন মাস থেকে বাস্তবায়ন শুরু হবে, তার উল্লেখ নেই। অতএব, বোঝাই যাচ্ছে বাফেদা-এবিবি মডেলেই বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা চলবে। বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুধাবন করতে হবে যে সংকটটা বর্তমানের এবং দুই বছর ধরে চলছে। সমাধান এখনই দরকার। বাফেদা ও এবিবির মাধ্যমে দর ঠিক করে দেওয়ার পদ্ধতিতে ডলার সংকট কমেনি।

আর্থিক খাতের ভঙ্গুরতা নিরসনে ব্যাংক কোম্পানি আইন এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইনে কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে। আইনের প্রয়োগ ঠিকমতো না হলে এ ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ‘কারেক্টিভ অ্যাকশন’-এর জন্য একটি নির্দেশনা জারি করেছে, যা কার্যকর হবে আগামী বছরের মার্চ থেকে। ব্যাংকিং খাতে আইন কিংবা নির্দেশনার পাশাপাশি এর কার্যকর প্রয়োগ জরুরি। নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক কার্যক্রমের মাধ্যমে আর্থিক খাতের অবস্থার পরিবর্তনের চেষ্টা করতে হবে।

সবশেষে বলব, নতুন মুদ্রানীতিতে অনেক কথাবার্তা আছে। যা করা হয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ও ডলার সংকট নিরসনের জন্য নতুন মুদ্রানীতির পদক্ষেপগুলো যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশ ব্যাংককে মুদ্রানীতির প্রয়োগের ক্ষেত্রে এ দুটি ক্ষেত্রে মনোযোগ আরও বাড়ানো উচিত বলে মনে করি।

 

ডেইলি শোরবাজার ডটকম/এম আর.

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments