ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত শেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি মাসের প্রথম তিন সপ্তাহেই ২৪২ জনের মৃত্যু হলো। এডিস মশাবাহিত এ রোগে চলতি বছর ৪৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এক বছরে এটিই সবচেয়ে বেশি মৃত্যু। এর আগে ২০২২ সালে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৮১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বছর ডেঙ্গুর সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। শুধু রাজধানীতেই এ পর্যন্ত ৫০ হাজার রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর পর চট্টগ্রাম, তার পরই বরিশালের অবস্থান। এ বছর ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ভর্তি হয়েছেন ৬৪ হাজার ১০২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩ হাজার ১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৪ হাজার ৪৬৭ জন, খুলনা বিভাগে ৪ হাজার ৯১৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩ হাজার ৩০৫ জন, রংপুর বিভাগে ২ হাজার ১৩১ জন, বরিশাল বিভাগে ১১ হাজার ৬৩০ জন এবং সিলেট বিভাগে ৮৮০ ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন।
জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিদিনের যে হিসাব, সেটা শুধুই কাগজ-কলমের– প্রকৃত রোগী এর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। কারণ অধিদপ্তর শুধু তাদের হিসাবে থাকা হাসপাতালের তথ্য দেয়। এর বাইরে অসংখ্য হাসপাতাল-ক্লিনিক রয়েছে। আবার বাসাবাড়িতে থেকে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যাও কম নয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত শেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীতে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের, আর ঢাকার বাইরে পাঁচজন। এ সময় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৬৮ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৪২ জন এবং ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩২৬ জন।
এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৪ হাজার ৩৫৯ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯৬ হাজার ৩৭ জন। এ বছরের জানুয়ারিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়। ফেব্রুয়ারিতে মৃত্যু হয় দু’জনের। মার্চে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও এপ্রিল ও মে মাসে দু’জন করে মারা যান। জুন মাসে এসে ভয়াবহ আকার ধারণ করে ডেঙ্গু। ওই মাসে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়। জুলাই মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারান ২০৪ জন। চলতি মাসের ২২ দিনেই ডেঙ্গুতে ২৪২ জনের মৃত্যু হলো।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাহাদাত হোসেন বলেন, আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে ডেঙ্গু সংক্রমণ শীর্ষ চূড়া পার করছে। সে হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখন সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। জ্বর এলে দ্রুত পরীক্ষা করাতে হবে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.


































Recent Comments