বৃহস্পতিবার, ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeএক্সক্লুসিভচরম অর্থ সংকটে মীর আক্তার হোসেন, বিক্রয় কমেছে ৫০ শতাংশ (পর্ব-১)
spot_img
spot_img

চরম অর্থ সংকটে মীর আক্তার হোসেন, বিক্রয় কমেছে ৫০ শতাংশ (পর্ব-১)

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যবসায়ীকভাবে ভালো অবস্থায় নেই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের মীর আক্তার হোসেন লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির রেভেনিউ বা বিক্রয় রাজস্ব আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। শুধু কি তাই? বিক্রয় রাজস্ব ও মুনাফা কমলেও প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক লোন বা ঋণ বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। ব্যবসায়ীকভাবে দুর্বল হওয়া প্রতিষ্ঠানটি ঋণ ও সুদ (ইন্টারেস্ট) পরিশোধ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্রটি বলছে, চরম অর্থ সংকটে থাকা মীর আক্তার হোসেনের হাতে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ কমেছে মারাত্মকভাবে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আগামীতে ব্যবসা পরিচালনায় হিমশিম খাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, সদ্য বিদায়ী বছরে (৩০ জুন ২০২৫) গ্রাহকদের কাছ থেকে কোম্পানির কাছে নগদ অর্থ এসেছে ১৫২ কোটি ৪৫ লাখ ২৯ হাজার ৫৭০ টাকা। এর আগের বছর যা ছিল ২৯১ কোটি ৪৭ লাখ ৬৫ হাজার ৭২৭ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ কম এসেছে ১৩৯ কোটি ২ লাখ ৩৬ হাজার ১৫৭ টাকা বা ৪৮ শতাংশ। শুধু তাই নয়, সদ্য বিদায়ী বছরে কোম্পানিটির নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো কমেছে ৮০ কোটি ৩৫ লাখ ৮৯ হাজার ১২ টাকা, যা কোম্পানিটির চরম তারল্য সংকটের বহিঃপ্রকাশ।

(মীর আক্তার হোসেনের অনিয়ম নিয়ে পাঁচ পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনে আজ প্রকাশ করা হলো প্রথম পর্ব। খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে দ্বিতীয় পর্ব।)

তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, নিয়ম অনুসারে হিসাব বছর শেষ হওয়ার ১২০ দিনের মধ্যে প্রভিডেন্ট ফান্ডের আর্থিক বিবরনীর নিরীক্ষা শেষ করতে হয় কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, ৩০ জুন ২০২৫ হিসাব বছর শেষ হওয়ার পর ১২০ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত প্রভিডেন্ট ফান্ডের আর্থিক বিবরনীর নিরীক্ষা শেষ করেনি মীর আক্তার হোসেন।

ফলে কোম্পানিটির ব্যবসা পরিচালনার দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারী ও খাত সংশ্লিষ্টদের মনে।

এদিকে, সদ্য বিদায়ী বছরে ব্যবসায়ীকভাবে নাজুক হয়ে পড়া মীর আক্তার হোসেনের বিক্রয় রাজস্ব কমেছে ৫০ শতাংশ। ৩০ জুন ২০২৪ হিসাব বছরে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় রাজস্ব হয়েছিল ২৬৮ কোটি ৭৪ লাখ ৮ হাজার ২০৪ টাকা। আর সদ্য বিদায়ী বছরে তা এসে দাঁড়িয়েছে ১৩৩ কোটি ৯৫ লাখ ৯৯ হাজার ৪৮০ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে বিক্রয় রাজস্ব কমেছে ১৩৪ কোটি ৭৮ লাখ ৮ হাজার ৭২৪ টাকা, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কোম্পানিটির মুনাফায়।

৩০ জুন ২০২৪ হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছিল ২ দশমিক ৪৯ টাকা। আর সদ্য বিদায়ী বছরে তা এসে দাঁড়িয়েছে এক দশমিক ৭২ টাকা। বছরের ব্যবধানে ইপিএস কমেছে দশমিক ৭৭ টাকা বা ৩১ শতাংশ, কোম্পানি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে, সদ্য বিদায়ী বছরে কোম্পানির মোট (স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি) ঋণ বেড়েছে ১৯৪ কোটি ৫৩ লাখ ৫১ হাজার ৭৮৪ টাকা।৩০ জুন ২০২৪ হিসাব বছরে প্রতিষ্ঠানটির ঋণ ছিল এক হাজার ৮০১ কোটি ৭৬ হাজার ২১১ টাকা। আর সদ্য বিদায়ী বছরে তা এসে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯৯৫ কোটি ৫৪ লাখ ২৭ হাজার ৯৯৫ টাকা। বছরের ব্যবধানে মোট ঋণ বেড়েছে ১১ শতাংশ।

শুধু যে ব্যবসায়ীকভাবেই দুর্বল হয়েছে তাই নয়, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও মীর আখতার হোসেনের ম্যানেজমেন্ট অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছে, জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে প্রতিষ্ঠানটি ৩০ জুন ২০২৪ হিসাব বছরের তুলনায় ৩০ জুন ২০২৫ হিসাব বছরে ২৩ লাখ ১৩ হাজার ৯৮৪ টাকা ৩৮ শতাংশ লোকসান করেছে।

এদিকে, এসব ব্যাপারে জানতে মীর আক্তার হোসেনের কোম্পানি সচিব মো. মেসবাউস সুন্নাহকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, আমি হাসপাতলে আছি। আমি এই মূহুর্তে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবো না।

সূত্রটি জানায়, ভালো কোম্পানির তকমা লাগিয়ে পুঁজিবাজারে ২০২১ সালে তালিকাভুক্ত হয় মীর আক্তার হোসেন। কিন্তু তালিকাভুক্ত পরবর্তী সেই তকমা ধরে রাখতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। তালিকাভুক্তির পূর্বে প্রতিষ্ঠানটির ইস্যু মূল্য ছিল ৬০ টাকা। আজ (৩০ নভেম্বর) প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার দর এসে দাঁড়িয়েছে ২৮ দশমিক ৭০ টাকা। অর্থাৎ প্রায় পাঁচ বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ার দর কমেছে ৩১ দশমিক ৩০ টাকা বা ৫২ শতাংশ।

অর্থাৎ তালিকাভুক্ত পরবর্তী যতই দিন গেছে ততই প্রতিষ্ঠানটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। ফলে শেয়ারটির দর কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। আগামীতে কোম্পানিটির শেয়ার দর আরও কমার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

পরবর্তীতে কোম্পানিটির সাবেক প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) পরিমল কুমার সরকারকে ফোন করা হলে তিনি আজ (৩০ নভেম্বর) অফিসে ডাকেন। এরপর তার অফিসে গেলে তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে প্রধান অর্থ কর্মকর্তার মো. আমির হোসেন এর সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। কিন্তু আমির হোসেনও কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসির হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি কোনো সাড়া দেননি।

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান উর রশীদ চৌধুরী ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে বলেন, মীর আক্তার হোসেন তালিকাভুক্তির সময় বিনিয়োগকারীদেরকে যেসমস্ত স্বপ্ন দেখিয়েছিল সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারেনি। ফলে কোম্পানিটি থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, মীর আক্তা হোসেন-এর পরিশোধিত মূলধন ১২০ কোটি ৭৭ লাখ ২০ হাজার টাকা, যেখানে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন শ্রেণীর বিনিয়োগকারীদের (উদ্যোক্তা-পরিচালক ব্যতীত) মালিকানা রয়েছে ৫১ দশমিক ৪২ শতাংশ।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/টিএ

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments