শনিবার, ৭ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeজাতীয়দেশে শক্তিশালী কালবৈশাখীর আশঙ্কা
spot_img
spot_img

দেশে শক্তিশালী কালবৈশাখীর আশঙ্কা

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: কালবৈশাখীর ঝড়-ঝঞ্ঝা-বজ্রপাত নিয়েই এসেছে বাংলা নতুন বছর। সঙ্গে খরতাপে পুড়ছে উত্তরাঞ্চল। অসহনীয় হয়ে উঠছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। বিগত আট বছরের মধ্যে শুক্রবার সর্বোচ্চ গরম পড়েছে রাজশাহীতে। সেখানে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে সিলেট বিভাগে কালবৈশাখীর তীব্র ঝড় ও বজ্রপাতে আট জনের মৃত্যু হয়েছে। চুয়াডাঙ্গায় ঝড়ে গাছচাপা পড়ে মারা গেছে একজন।

বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে গেছে এবং সেই সঙ্গে হালকা বৃষ্টিও হয়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাসের আমেরিকান মডেল, ইউরোপীয় মডেলসহ প্রায় সবগুলো মডেল পূর্বাভাস দিচ্ছে যে, আজ শনিবার রাজধানী ঢাকা শহরে তীব্র কালবৈশাখী হতে পারে। বেলা ৩টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে ঢাকাসহ আশপাশের জেলাগুলোর ওপর দিয়ে তীব্র কালবৈশাখী বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঝড় রাজশাহী বিভাগের ওপরে সৃষ্টি হয়ে তা পর্যায়ক্রমে ঢাকা বিভাগ অতঃপর বরিশাল বিভাগ ও এর পরে চট্টগ্রাম বিভাগের ওপর দিয়ে অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঝড় চট্টগ্রাম বিভাগ পর্যন্ত শক্তিশালী থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। হয়তো ফেনী পর্যন্ত বজ্রপাত অব্যাহত থাকবে।

কানাডার সাসক্যাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, প্রায় সব আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেল আজ শনিবার, আগামীকাল এবং ১৮ এপ্রিল দেশব্যাপী শক্তিশালী কালবৈশাখী বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনার কথা নির্দেশ করছে। আজ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশব্যাপী শক্তিশালী কালবৈশাখী বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। গত এক সপ্তাহ থেকে প্রায় প্রত্যেক দিন রাতে ও দিনে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে বিভিন্ন জেলায় কালবৈশাখী ঝড়, তীব্র বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি হচ্ছে। রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে কালবৈশাখীর এই ধারা অব্যাহত থাকবে কমপক্ষে আগামী ২০ এপ্রিল পর্যন্ত।

মোস্তফা কামাল পলাশ জানান, ১৬, ১৭ ও ১৮ এপ্রিল খুবই শক্তিশালী জেট স্ট্রিম (ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার উচ্চতায় যুদ্ধ বিমানের গতিতে পশ্চিম দিক থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত বায়ু) বাংলাদেশ ও ভারতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হবে যার কারণে এই তিন দিন খুবই শক্তিশালী কালবৈশাখী বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। এই তিন দিন ঢাকা শহরে দুপুরের পর থেকে রাত ৮টার মধ্যে শক্তিশালী কালবৈশাখী বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা।

এই তিন দিন কালবৈশাখী শুরু হবে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলোতে যা পরে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও চট্টগ্রামের ওপর দিয়ে অতিক্রম করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেল (বাংলাদেশের ওপর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেল) অনুসারে আগামী ২২ এপ্রিল পর্যন্ত সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকায় কমপক্ষে ৩০০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে।

এদিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার থেকে আগামী ২০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জায়গায় তীব্র কালবৈশাখী বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে আকাশ থাকতে পারে আংশিক মেঘলা। আবহাওয়া চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থায় করছে।

আবহাওয়া অফিসের পক্ষ থেকে বলা হয়, কালবৈশাখী ঝড়ের প্রভাবে দেশের সাত বিভাগে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্হায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া, দেশের অন্যান্য জায়গায় অস্হায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এদিকে, রাজশাহী, পাবনা ও চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলের ওপর বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এছাড়া, বৃষ্টি বা বজ্রপাতের ঘটনা অব্যাহত থাকতে পারে বলে একটি বর্ধিত পূর্বাভাসে বলা হয়।

এদিকে রাজশাহী আবহাওয়া দপ্তরের সিনিয়র আবহাওয়া পর্যবেক্ষক আবদুস সালাম বলেন, গতকাল শুক্রবার বেলা ২টার দিকে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিকাল ৩টার দিকেও একই তাপমাত্রা ছিল। এ ছাড়া গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি বলেন, আগামী সাত দিন এমন পরিস্হিতি থাকতে পারে। এরপরই বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। বৃষ্টি হলেই তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, রাজশাহীতে ২০১৪ সালের ২৫ এপ্রিল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর পর আর কখনোই তাপমাত্রা এত ওপরে উঠেনি।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, চলতি সপ্তাহ জুড়েই এমন দাবদাহ অব্যাহত থাকতে পারে। আর এই সময়ের মধ্যে বৃষ্টি না হলে পরিস্হিতির উন্নতির কোনো সম্ভাবনাই নেই। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, বৃষ্টিহীন রাজশাহীতে খরার কবলে পড়েছে গাছের আম। মাত্রাতিরিক্ত তাপের কারণে গাছে কেবলই গুটি বাঁধা আম ঝরে পড়তে শুরু করেছে। তাপমাত্রা বাড়ায় কেবল আমের গুটিই নয়, ঝরছে লিচুর গুটিও। তবে দাবদাহের কারণে আম-লিচুর এই গুটি ঝরা স্বাভাবিক। রাজশাহীর আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এমন অবস্হা চলতে থাকলে ফলনেও বিপর্যয় নেমে আসবে।

 

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এস.

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments