বৃহস্পতিবার, ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeস্বাস্থ্য বার্তাপ্যাকেটজাত জুসের তরল ফ্রুক্টোজে বাড়তে পারে ফ্যাটি লিভারের আশঙ্কা
spot_img
spot_img

প্যাকেটজাত জুসের তরল ফ্রুক্টোজে বাড়তে পারে ফ্যাটি লিভারের আশঙ্কা

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: গরমে স্বস্তি পেতে কিংবা নাশতার সঙ্গী হিসেবে অনেকেই প্যাকেটজাত বা বোতলজাত জুস পান করেন। অনেকের কাছে এটি স্বাস্থ্যকর পানীয় বলেও পরিচিত। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারের অনেক প্যাকেটজাত জুসে থাকা ‘তরল ফ্রুক্টোজ’ লিভারের জন্য গুরুতর ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি কয়েকটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কিছু প্রতিষ্ঠান ফলের রস হিসেবে পণ্য বাজারজাত করলেও সেগুলোতে উচ্চমাত্রার তরল ফ্রুক্টোজ ব্যবহার করা হচ্ছে।

গবেষকদের মতে, প্যাকেটজাত পানীয়তে থাকা এই তরল ফ্রুক্টোজ লিভারের টিস্যুতে চর্বি জমার অন্যতম কারণ। অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের মোড়কে ফলের পাল্প বা প্রাকৃতিক উপাদানের কথা উল্লেখ থাকলেও প্রকৃত উপাদান তালিকায় উচ্চমাত্রার শর্করা পাওয়া যায়।

তরল ফ্রুক্টোজ এক ধরনের মুক্ত শর্করা, যা সাধারণত প্যাকেটজাত জুস, কোমল পানীয় এবং বিভিন্ন মিষ্টি পানীয়তে ব্যবহার করা হয়। এতে কোনো আঁশ বা খাদ্যআঁশ থাকে না। ফলে শরীর খুব দ্রুত এটি শোষণ করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রক্রিয়াজাত জুস দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য করতে এবং স্বাদ বাড়াতে অতিরিক্ত চিনি বা ফ্রুক্টোজ যোগ করা হয়। এতে পানীয়টি উচ্চ শর্করাযুক্ত হয়ে ওঠে, যা লিভারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।

‘ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন ওপেন সায়েন্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, অতিরিক্ত তরল ফ্রুক্টোজ গ্রহণ ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।

অন্যদিকে ‘অ্যাডভান্সেস ইন নিউট্রিশন’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে এ ধরনের শর্করা গ্রহণ করলে লিভারে চর্বি জমতে শুরু করে এবং ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরির ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়।

গবেষকদের ভাষ্য, তরল ক্যালোরি দ্রুত শোষিত হওয়ায় লিভারকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। এর ফলে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি তৈরি হয়ে লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোটা ফলে থাকা ফ্রুক্টোজ এবং প্রক্রিয়াজাত জুসে থাকা তরল ফ্রুক্টোজ এক নয়। ফলে থাকা আঁশ শরীরে চিনির শোষণ ধীর করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দেয়। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।

অন্যদিকে জুস তৈরির সময় অনেক ক্ষেত্রে ফলের আঁশ বাদ পড়ে যায়। ফলে একই পরিমাণ ফলের তুলনায় জুস থেকে শরীরে বেশি শর্করা প্রবেশ করতে পারে।

পুষ্টিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, কোনো পণ্যের মোড়কে ‘প্রাকৃতিক’ বা ‘ন্যাচারাল’ লেখা থাকলেই সেটি স্বাস্থ্যকর হবে-এমন ধারণা সঠিক নয়। জুস কেনার আগে উপাদান তালিকা ভালোভাবে দেখা জরুরি। বিশেষ করে অতিরিক্ত শর্করা, তরল ফ্রুক্টোজ বা কৃত্রিম মিষ্টিকারক রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

তাদের পরামর্শ, প্যাকেটজাত জুসের বদলে সম্ভব হলে সরাসরি ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। এতে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও আঁশ পাবে এবং লিভারের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপও কমবে।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments