ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: বিরোধীদের বিক্ষোভের মধ্যেই ভারতে ব্রিটিশ আমলের তৈরি আইন পুরোপুরি মুছে ফেলে সোমবার থেকে চালু হলো নতুন তিনটি ফৌজদারি আইন। নতুন আইনে ভারতীয় নাগরিকদের অধিকার এবং নারী ও শিশু সুরক্ষা, ন্যায়বিচার লাভ এবং সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে সরকারের দাবি।

তবে বিরোধীরা মনে করছে, পুলিশ ও শাসক গোষ্ঠীর হাতে এ আইন আরও লাগামহীন ক্ষমতা তুলে দেবে। ভবিষ্যতে এসবের অপব্যবহার হবে। এ ছাড়া দেখা দেবে অভূতপূর্ব আইনি জটিলতা। গত বছর পাস হয়েছিল আইনটি।
নতুন আইন চালু হওয়ায় বাতিলের খাতায় গেলো ইন্ডিয়ান পেনাল কোড, ১৮৬০। বদলে গেছে দেশের ফৌজদারি আইন। রইল না ফোরটোয়েন্টি বা চারশ বিশ ধারা। দেড়শ বছরেরও বেশি প্রাচীন ব্রিটিশ জমানার ভারতীয় দণ্ডবিধির দিন শেষ হয়ে গেল। একইসঙ্গে অতীত হয়ে গেল ফৌজদারি দণ্ডবিধি (সিআরপিসি ১৯৭৩) এবং ইন্ডিয়ান এভিডেন্স অ্যাক্ট, ১৮৭২।
বিরোধীদের আপত্তিতে কর্ণপাত না করে গতকাল থেকে দেশজুড়ে কার্যকর হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রিয় তিনটি নতুন ফৌজদারি আইন।
পরে সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ‘স্বাধীনতার প্রায় ৭৭ বছর পরে, আমাদের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে স্বদেশি হয়ে উঠছে। এ আইন সম্পূর্ণভাবে ভারতীয় নীতির ভিত্তিতে কাজ করবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি বিচার ব্যবস্থার ভারতীয়করণ। যে সমস্ত সংস্থা বা সংগঠন নারী ও শিশুদের অগ্রাধিকার দেয়, তাদের ক্ষেত্রে এ নতুন আইন অনেক উপকারি হবে বলে দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর।
তার অভিমত, এবার থেকে ‘দণ্ড-এর পরিবর্তে ‘ন্যায়’ প্রতিষ্ঠা হবে। বিলম্বতার বদলে এখন দ্রুততার সঙ্গে শুনানি ও বিচার হবে। আগে, শুধু পুলিশের অধিকার সুরক্ষিত ছিল, কিন্তু এখন থেকে ভুক্তভোগী ও অভিযোগকারীদের অধিকারও সুরক্ষিত করা হবে। সংসদে পর্যাপ্ত আলোচনা ছাড়াই নতুন আইন পাস হয়েছে বলে বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছেন। তবে তা প্রত্যাখ্যান করে অমিত শাহ বলেন, দেশের ইতিহাসে অন্য কোনো আইন সংসদে এত বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়নি।
এদিকে কেন্দ্রীয় তিন আইন কার্যকর হওয়ার প্রতিবাদে গতকাল কর্মবিরতি পালন করেন পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা হাইকোর্ট ও রাজ্যের নিম্ন আদালতগুলোর আইনজীবীরা৷ তার ফলে এদিন সেভাবে কোনো মামলার শুনানি হয়নি ৷ আইনজীবীদের প্রতিবাদে ব্যাহত হয় দেশের আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্ম৷
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.
































Recent Comments