ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি সায়হাম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের শেয়ারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কোম্পানিটির শেয়ার নিয়ে কারসাজি, ইনসাইডার ট্রেডিং বা সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
সম্প্রতি বিএসইসির সার্ভিল্যান্স বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নির্দেশনায় সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্য ও লেনদেন বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধান করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ারের দাম ও লেনদেনে অস্বাভাবিকতা কমিশনের নজরে এসেছে। বিষয়টি স্বাভাবিক মনে না হওয়ায় এর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ডিএসইকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা অসংগতি পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাজারের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ৮ জুন সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ারের দর ছিল ১৭ টাকা ৮০ পয়সা। ২ সেপ্টেম্বর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮ টাকা ২০ পয়সায়। অর্থাৎ প্রায় তিন মাসে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ২০ টাকা ৪০ পয়সা বা ১১৪ দশমিক ৬১ শতাংশ। এরপর অবশ্য শেয়ারটির দর কিছুটা কমেছে।
এভাবে স্বল্প সময়ে শেয়ারের দামে বড় ধরনের উত্থানের পেছনে কোনো কারসাজি বা অন্য কোনো অনিয়ম রয়েছে কি না, সেটিই এখন খতিয়ে দেখবে ডিএসই। তদন্ত শেষে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কমিশন পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।
বিএসইসির নির্দেশনায় তদন্তের আওতা হিসেবে কয়েকটি বিষয় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ার নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সমন্বিত বা কারসাজিমূলক লেনদেন হয়েছে কি না, অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহার করে ইনসাইডার ট্রেডিং করা হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট স্টক ব্রোকার, ডিলার ও অনুমোদিত প্রতিনিধিরা মার্জিন-সংক্রান্ত বিধিমালা ও কমিশনের নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালন করেছেন কি না।
এ ছাড়া সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত ও প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট মধ্যস্থতাকারীদের কোনো ব্যর্থতা বা দায় রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করা হবে। পাশাপাশি সিকিউরিটিজ আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালার অন্য কোনো ধারা লঙ্ঘন হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।
সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা ও অনুমোদিত প্রতিনিধিদের সচেতনতা বাড়াতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিএসইসির মতে, এ ধরনের সন্দেহজনক লেনদেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালার সম্ভাব্য লঙ্ঘনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন বলেন, কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য বা মৌলিক কারণ ছাড়াই কোনো কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়লে এর পেছনে কারসাজির আশঙ্কা তৈরি হয়। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। তাই বাজারে স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত কারণ বের করা এবং অনিয়ম পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ
































Recent Comments