নিজস্ব প্রতিবেদক: গত ২৬ অক্টোবর রবিবার অনলাইন নিউজ ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমে ‘স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের আমানত কমেছে ৬৭ শতাংশ, ঋণ খেলাপি বেড়েছে ৩৩৩ শতাংশ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেই সংবাদের প্রতিবাদ করেছেন স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি’র ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহেল আহমেদ রহমানী।
প্রতিবাদ পত্রে তিনি বলেছেন, সম্প্রতি আপনার অনলাইন সংবাদপত্রে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের বিরুদ্ধে প্রকাশিত কিছু বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ আমাদের গোচরীভূত হয়েছে। সংবাদে প্রকাশিত তথ্যসমূহ নিছকই মনগড়া, বাস্তবতা বিবর্জিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা এ জাতীয় অসত্য প্রতিবেদন ও সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। বাস্তবিক অর্থে বিগত কয়েক বছরে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের আমানত ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, খেলাপী ঋণ আদায়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং ইসলামি ব্যাংকিং খাতে বিদ্যমান নেতিবাচক পরিস্থিতিতেও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে তারল্য সংকট না থাকায় ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রসঙ্গত, জনগণের আস্থা বৃদ্ধির ফলশ্রুতিতে বিগত তিন বছরে ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যা বেড়েছে দুই লক্ষের অধিক এবং ব্যাংকের আমানত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার অধিক বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রতিবাদ পত্রে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরীক্ষিত প্রতিবেদনে রিপোর্টকৃত শ্রেণীকৃত ঋণ আদায় কার্যক্রম জোরদার করার মাধ্যমে ৭২৪ কোটি টাকার খেলাপী ঋণ কমিয়ে আনা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকের আর্থিক বুনিয়াদ শক্তিশালী করণের আওতায় নতুনভাবে ৩০২ কোটি টাকা প্রভিশন সংরক্ষণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সময়ে সময়ে জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা, প্রভিশনিং এবং খেলাপী বিনিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, যা তাদের পরিদর্শক দল এবং বিভিন্ন বিভাগ কর্তৃক নিয়মিত পর্যবেক্ষন করা হচ্ছে। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের এমডি ও প্রধান নির্বাহীকে জড়িয়ে প্রতিবেদনে কিছু বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, যা প্রকৃত সত্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কথিত অভিযোগসমূহ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থা কর্তৃক প্রমাণিত নয় বরং ভিত্তিহীন বিধায় বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক তাকে এমডি হিসেবে পুনর্বহাল করা হয়। যাচাই বা প্রমাণিত হওয়ার পূর্বে কাউকে অভিযুক্ত করা কোনভাবেই সমীচিন নয় বরং মানহানিকর। ব্যাংকের অন্যান্য কর্মকর্তাদের বিষয়ে তাদের সাবেক ব্যাংকের কিছু অনিয়ম নিয়ে আনীত অভিযোগসমূহ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। এখানে উল্লেখ্য যে, বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ যে কোন বিষয়ে অনুসন্ধানের স্বার্থে অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাড়াও ব্যাংকের তৎকালীন কর্মরত ব্যক্তিদের তলব করে তথ্যের সঠিকতা যাচাই করে থাকেন, যা তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ। তথ্য যাচাইয়ের জন্য তলব করা কোন ব্যক্তিকে অভিযুক্ত হিসেবে আখ্যায়িত করা সম্পূর্ণরূপে ভিত্তিহীন ও মানহানিকর। ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা এবং প্রমাণিত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তাকে দুর্নীতি, জাল সনদ, অর্থ আত্মসাত এবং অযোগ্যতার দায়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে চাকুরি হতে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ সকল কর্মকর্তাদের যোগসাজশে প্রপাগান্ডা চালিয়ে ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মানহানি সহ ব্যাংকের সুনাম নষ্ট করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
প্রতিবাদ পত্রে উল্লেখ করা হয়, নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে উল্লেখ্য যে, ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ পদসমূহে সংশ্লিষ্টদের নিয়োগ বাংলাদেশ ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের নিজস্ব বিধি-মালা অনুসরণ পূর্বক প্রয়োজনীয় যোগ্যতা এবং সামর্থ্যতার ভিত্তিতে করা হয়েছে। নিয়োগের ব্যাপারে প্রতিবেদনে উত্থাপিত তথ্যসমূহ সঠিক নয়। উল্লেখ্য যে, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের সকল কার্যক্রম বাংলাদেশ ব্যাংক, শরীয়াহ্ধসঢ়; কাউন্সিল এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থার নীতিমালা অনুসরন করে পরিচালিত হয়, যা নিয়মিতভাবে নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থা দ্বারা পর্যবেক্ষণ এবং নিরীক্ষা করা হয়। প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্যসমূহ ব্যাংকের প্রকৃত চিত্রকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে নেতিবাচক আঙ্গিকে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বিভ্রান্তিকর এবং সুষ্ঠ সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী। এ ধরণের অপচেষ্টা সমগ্র ব্যাংকিং খাতের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্থ করবে। ভবিষ্যতে এ ধরণের বিভ্রান্তিকর, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অসত্য তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সবিনয় অনুরোধ করছি।
আরও পড়ুন: স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের আমানত কমেছে ৬৭ শতাংশ, ঋণ খেলাপি বেড়েছে ৩৩৩ শতাংশ
প্রতিবেদকের বক্তব্য
‘স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের আমানত কমেছে ৬৭ শতাংশ, ঋণ খেলাপি বেড়েছে ৩৩৩ শতাংশ’ শিরোনামে প্রতিবেদনটি করা হয়েছে ব্যাংকটির গত বছরের (৩১ ডিসেম্বর ২০২৪) ও এর আগের বছরের প্রকাশিত আর্থিক ডাটা থেকে এবং প্রতিবেদনে সেসমস্ত আর্থিক ডাটার স্ক্রিনশর্ট দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো সন্দেহ না থাকে। এখানে মনগড়া, বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে প্রতিবেদনটি করা হয়নি। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিইও এবং বর্তমান, সাবেক কোনো কর্মকর্তাকে নিয়ে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়নি। প্রতিবেদনের স্বার্থে ব্যাংকের প্রধান অর্থ কর্মকর্তার বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যাংকের চাকুরিচ্যুত কোনো কর্মকর্তার সাথে যোগসাজস করে এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। এমনকি ব্যাংকের কর্মকর্তা নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো তথ্যও উল্লেখ করা হয়নি প্রতিবেদনে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/টিএ
































Recent Comments