ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: অনেকেরই কাজের ফাঁকে বা মনের অজান্তে আঙুল ‘মটকানো’-র অভ্যাস আছে। কাজের মাঝে একটানা টাইপ করতে করতে যখনই ক্লান্ত লাগে তখন আঙুল ফোটালে ‘কট’ করে এক ধরনের শব্দ হয়। এতে অদ্ভুত এক ধরনের শান্তি পাওয়া যায়। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন আঙুল ফোটানোর সময় অস্থিসন্ধির ভেতরে আসলে ঠিক কী ঘটে?
‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,আমাদের প্রতিটি জয়েন্টে ‘সাইনোভিয়াল ফ্লুইড’ তরল থাকে। আঙুলে চাপ দিলে বা বাঁকালে এই তরলে বুদবুদ তৈরি হয়ে ফেটে যায়, যাকে ডাক্তারি ভাষায় ‘ক্রিপিটেশন’ বলা হয়। এই গ্যাস বাবল ফেটে যাওয়ার ফলেই শব্দ তৈরি হয়।
ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মাঝে মাঝে আঙুল ফোটালে বা হালকা শব্দ করলে জয়েন্ট বা হাড়ের কোনো বড় ক্ষতি হয় না। অনেকেই ক্লান্তি দূর করতে বা মানসিক তৃপ্তির জন্য আঙুল মটকান। কিন্তু চিকিৎসকরা বলেন, সবসময় নিয়মিত এটা না করলে ভয়ের কোনও কারণ নেই। এর সঙ্গে সরাসরি অস্থিসন্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্পর্ক নেই। তবে অনেক সময় দেখা যায় আঙুল ফাটাতে গিয়ে আঙুলে ব্যথা রয়েছে, সেটা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঝে মাঝে আঙুল ফাটানো ঠিক হলেও বদঅভ্যাসে পরিণত করলেই মুশকিল। অতিরিক্ত চাপ দিয়ে আঙুল মটকালে, খুব জোরে মোচড় দিলে বা অন্য কাউকে দিয়ে জোর করে ফোটালে লিগামেন্ট আলগা হয়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত এমন করার ফলে হাতের গ্রিপ বা আঁকড়ে ধরার শক্তি কমে যায়। এমনকি লিগামেন্টে আঘাত লাগার সম্ভাবনাও থাকে। তাই আঙুল মটকানোকে বদঅভ্যাসে পরিণত না করে নিয়ন্ত্রণে রাখাই ভালো। তবে যদি ব্যথা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম
































Recent Comments