ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: হাঁটা, সিঁড়ি বেয়ে ওঠা, চেয়ার থেকে উঠতে বা দৌড়ানোর সময় জয়েন্টে ব্যথা শুরু হলে তবেই অনেকেই জয়েন্টের স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস কি জয়েন্টের সমস্যা প্রতিরোধ করতে পারে? এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, শুধু খাদ্যাভ্যাস দিয়ে আর্থ্রাইটিস প্রতিরোধ বা নিরাময় করা সম্ভব নয়, তবে এটি জয়েন্ট সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জয়েন্টের সুস্থতার জন্য ওজন নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের প্রতিটি অতিরিক্ত কেজি ওজন হাঁটু ও নিতম্বের মতো ওজন বহনকারী জয়েন্টগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, যা অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি ও অগ্রগতি বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে ওজন কমানো গেলে জয়েন্টের ওপর চাপ কমে, ব্যথা হ্রাস পায় এবং চলাফেরা সহজ হয়।
শুধু ওজন কমানোই নয়, পেশিশক্তি বজায় রাখাও জরুরি। শক্তিশালী পেশি শরীরের প্রাকৃতিক ‘শক অ্যাবজর্বার’ হিসেবে কাজ করে এবং জয়েন্টের ওপর চাপ কমায়। এজন্য পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ এবং নিয়মিত শক্তিবর্ধক ব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী, জয়েন্ট ভালো রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডাল, দুধ, দই, পনির, ডিম, মাছ, চর্বিহীন মাংস ও সয়াজাতীয় প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা উচিত। কমলা, আমলকি ও পেয়ারার মতো ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে। এছাড়া দুধ, দই ও পনিরের মতো ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার এবং পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি হাড় ও পেশি সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। স্যামন, সার্ডিন ও ম্যাকারেলের মতো তৈলাক্ত মাছের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড প্রদাহজনিত আর্থ্রাইটিসে উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি পূর্ণ শস্য, ডাল, বাদাম ও বীজজাতীয় খাবারও নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
তবে তারা সতর্ক করে বলেন, ‘অলৌকিক’ কোনো খাদ্য বা সাপ্লিমেন্ট ক্ষয়প্রাপ্ত তরুণাস্থি (কার্টিলেজ) পুনর্গঠন করতে পারে—এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই এসব প্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়াই ভালো।
এ ছাড়া অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, কোমল পানীয়, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, লাল মাংস, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাংস এবং অতিরিক্ত অ্যালকোহল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে গাউটে আক্রান্ত ব্যক্তিদের এসব খাবার সীমিত রাখতে হবে।
জয়েন্টে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, ফোলা, উষ্ণতা, শক্ত হয়ে যাওয়া বা দৈনন্দিন কাজ করতে অসুবিধা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সঠিক সময়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ, ফিজিওথেরাপি, ব্যায়াম ও প্রয়োজনীয় ওষুধের মাধ্যমে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। আর জয়েন্ট প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার সাধারণত তখনই প্রয়োজন হয়, যখন অন্য চিকিৎসায় আর উপকার মেলে না।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম
































Recent Comments