শনিবার, ২৭শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১১ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeঅর্থনীতিদক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশেই সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি, কারণ জানাল এডিবি
spot_img
spot_img

দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশেই সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি, কারণ জানাল এডিবি

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেই সর্বোচ্চ গড় মূল্যস্ফীতি থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটির মতে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশে গড় মূল্যস্ফীতি হতে পারে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

এডিবির প্রকাশিত এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (জুলাই সংস্করণ)-এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মূল্যস্ফীতির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে পেট্রোলিয়াম, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের প্রভাব পরিবহন, সেবাখাত ও অন্যান্য ভোক্তা পণ্যের দামে অব্যাহতভাবে পড়বে। ফলে মূল্যস্ফীতি কমার গতি ধীর হতে পারে।

বাংলাদেশে টানা তিন মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমে এসেছে। এর আগের মাস মে মাসে তা ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ।

এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়াবে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ।

ইউক্রেন যুদ্ধের পর ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেলেও পরে তারা তা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। তবে বাংলাদেশে টানা চার বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত রয়েছে।

প্রতি মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্যের ভিত্তিতে ১২ মাসের গড় হিসাব করে বার্ষিক মূল্যস্ফীতির চিত্র নির্ধারণ করা হয়, যা একটি অর্থবছরের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির অবস্থা তুলে ধরে।

মূল্যস্ফীতি বাড়লে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন সীমিত ও মধ্যম আয়ের মানুষ। আয় একই থাকলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় সংসার চালানোর ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

জ্বালানির দাম বাড়ায় পরিবহন ব্যয় বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে শাকসবজি, মাছ, মাংসসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের দামে। পাশাপাশি চালের দামও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ, অথচ জাতীয় গড় মজুরি বেড়েছে ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির তুলনায় আয় কম বাড়ায় মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমছে। ফলে অনেক পরিবারকে ধারদেনা করতে হচ্ছে কিংবা খাদ্য, পোশাক ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমাতে হচ্ছে।

এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাংলাদেশের পর পাকিস্তানে গড় মূল্যস্ফীতি হতে পারে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। আফগানিস্তানে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৫ দশমিক ২ শতাংশ এবং নেপালে ৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ভারত, ভুটান ও মালদ্বীপে মূল্যস্ফীতি ৪ শতাংশ থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে শ্রীলঙ্কায় মূল্যস্ফীতি ৭৩ শতাংশ এবং পাকিস্তানে ৫১ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। পরবর্তী সময়ে কঠোর নীতিগত পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশ দুটি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানির দাম সমন্বয়ের দ্বিতীয় দফার প্রভাব, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, বিনিময় হার সমন্বয় এবং খাদ্য ও সেবাখাতে অব্যাহত মূল্যস্ফীতির কারণে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি দ্রুত কমছে না।

সংস্থাটির মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে এবং ব্যক্তিগত ভোগব্যয় সীমিত করছে। একই সঙ্গে দুর্বল রপ্তানি, আমদানির মাঝারি প্রবৃদ্ধি এবং বেসরকারি বিনিয়োগের স্থবিরতা অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করছে।

এডিবি আরও বলেছে, উচ্চ জ্বালানি মূল্য, বৈদেশিক বাজারে দুর্বল চাহিদা এবং কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতার কারণে রপ্তানিমুখী উৎপাদন খাত চাপে থাকবে। অন্যদিকে সারের ঘাটতির কারণে কৃষি খাতও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তবে প্রবাসী আয়নির্ভর পারিবারিক ব্যয়ের কারণে সেবা খাতের প্রবৃদ্ধিতে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments