ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: বিশেষায়িতসহ দেশের শীর্ষ পর্যায়ের ৬০ শতাংশ হাসপাতালে সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল। তাই হাসপাতালেই বিভিন্ন রোগ সংক্রমণের ঘটনা ঘটছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য।

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে এটি ছাড়া আরও ১১টি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
গবেষকরা জানান, দেশের মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালে রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কেমন তা জানতে ৩৭টি হাসপাতালের ওপর গবেষণা চালানো হয়। এতে দেখা যায়, ৬০ শতাংশ হাসপাতালেই ব্যবস্থাটি দুর্বল। সংক্রমণ প্রতিরোধে সব হাসপাতালে একটি টিম থাকার কথা থাকলেও গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৩৭টি হাসপাতালের একটিতেও তা নেই।
গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে ঢাকার মুগদা মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মনজুরুল হক বলেন, ‘নোংরা পরিবেশ, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অপরিচ্ছন্ন টয়লেট– সরকারি হাসপাতাল নিয়ে এমন অভিযোগ নতুন নয়। এসবের কারণে হাসপাতালেই সংক্রমণের ঘটনা ঘটছে।
অন্য এক গবেষণায় দেখা যায়, সরকারি বরাদ্দের পরও ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রতি চারজন রোগীর মধ্যে তিনজনের চিকিৎসা ব্যয় বেশি, অন্তত ৭৩ শতাংশ। কারণ প্রায় ৭০ শতাংশ ওষুধ তাদের কিনতে হয় বাইরে থেকে। এই গবেষণা বলছে, বাড়তি চাপ সামলাতে গিয়ে ৯৭ শতাংশ রোগীর অভিযোগ ঠিকমতো শুনতে পারেন না চিকিৎসকরা।
এদিকে, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে সরকার। স্বাস্থ্য খাতে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ৪০টি সূচক রয়েছে। তবে যেসব লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ চলছে, তার পরিপূর্ণ তথ্য নেই বলে উঠে এসেছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) জরিপে। এতে দেখা যায়, ওই ৪০টি সূচকের মধ্যে চারটির কোনো তথ্যই নেই এবং ১০টির তথ্য রয়েছে আংশিক। বাকি ২৬টি সূচকের যাচাই করার মতো তথ্য থাকলেও তা পরিপূর্ণ নয়।
অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেনটিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিনের (নিপসম) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘অনেক ভালো ভালো এরিয়া ধরে গবেষণা হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর থেকে এগুলো বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।’ গবেষণা নিয়ে আরও প্রশিক্ষণ পেলে নতুনরা ভালো করবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। ডা. সেব্রিনা বলেন, ‘যাদের নিয়ে এসব গবেষণা করা হয়েছে, তারা অনুষ্ঠানে থাকলে কাজগুলো বেশি ফলপ্রসূ হতো। কিন্তু আমন্ত্রণ জানানোর পরও তারা আসেননি, হয়তো ব্যস্ততার কারণে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.
































Recent Comments