মঙ্গলবার, ২৩শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeস্বাস্থ্য বার্তাপৃথিবীর সবচেয়ে পুষ্টিকর হার্ব সজিনা
spot_img
spot_img

পৃথিবীর সবচেয়ে পুষ্টিকর হার্ব সজিনা

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: সামান্য হাঁচি কাশি হলেই আমরা ডাক্তারের কাছে দৌড়ে যাই। অথচ আমাদের প্রকৃতিতেই এমন কিছু উপাদান আছে যা খেলে রোগ নিরাময় হয়। এমন একটি উপাদান হচ্ছে সাজিনা। আমাদের হাতের কাছে পাওয়া সজিনা ও এর পাতায় রয়েছে নানা ধরণের গুণাগুণ যার সবগুলো আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। সজনের কাঁচা লম্বা ফল সবজি হিসেবে খাওয়া হয়, পাতা খাওয়া হয় শাক হিসেবে। স্বাস্থ্যবিদরা বলেন সজিনা গাছের পাতাকে বলা হয় অলৌকিক পাতা এটি পৃথিবীর সবচেয়ে পুষ্টিকর হার্ব।

আয়ুর্বেদ মতে, সজিনার শিকড় কষায় ও উত্তেজক। মূলের ছাল নাশক, হজম বৃদ্ধিকারক এবং হৃদপিন্ড ও রক্ত চলাচলের শক্তিবর্ধক হিসাবে কাজ করে। মূলের ছালের জলীয় নির্যাস স্নায়ুবিদ দূর্বলতা, তলপেটের ব্যাথা ও হিস্টিরিয়া চিকিৎসার উপকারি। শরীরে রক্তের পরিমান কমে গেলে পানি দিয়ে সজনেডাঁটা সেদ্ধ করে তার ক্বাথ এবং ডাঁটা চিবিয়ে খেলে রক্তল্পতা দূর হয়। তবে বেশ কিছুদিন নিয়মিত খেলে ভালোফল পাওয়া যায়। ১০০ গ্রাম সজনে ডাঁটার খোসা ছাড়িয়ে ৪০০ মিলিলিটার পানিতে সেদ্ধ করতে হবে। পানি ফুটে এক কাপ পরিমান হলে, পাত্র আগুন থেকে নামিয়ে সম্পূর্ণ ঠান্ডা হলেই খাওয়া উচিত।

সাজিনার গুনাগুন

* খাবার লবন অর্থাৎ ‘সোডিয়াম ক্লোরাইড’ ব্ল্যাড প্রেসার রোগীদের জন্য খুবই ক্ষতিকর। অপরদিকে ‘পটাশিয়াম লবন’ কোন ক্ষতি করেনা। সাজনে ডাঁটাতে সোডিয়াম ক্লোরাইড নেই বললেই চলে। কাজেই এতে ব্ল্যাড প্রেসার নিয়ন্ত্রনে থাকে।
* সাজনে ডাঁটা এবং ফুল ভাজা বা তরকারী খেলে জল ও গুটি এ দু’ধরনের বসন্তে আক্রান্ত হবার কোন সম্ভাবনা থাকেনা।
* সাজিনার ফলের নির্যাস যকৃৎ ও প্লীহার অসুখে ধনুষ্টংকার ও প্যারালাইসিসে উপকারী।
* সাজিনার বিচির তেল বাত রোগের চিকিৎসায় মালিশ হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
* সাজিনার মূলের রস দুধের সাথে মিশিয়ে খেলে মূত্র প্রবৃত্তি হয়। এর রস হাপানি নিবারক ও মূত্রকারক।
* সাজিনার ডাঁটা কৃমিনাশক ও জ্বরনাশক বলে দেশীয় ডাক্তাররা পক্ষাঘাত রোগে প্রয়োগ করেন। এর আঠা গর্ভস্রাবকারক।
* সাজিনার আঠা দুধে বেটে কপালে লাগালে মাথাধরা আরাম হয় এবং উপদংশজনিত বাগিতে প্রদান করা হয়।
* কৃমিনাশক হিসাবেও সাজনার ব্যবহার অতীব গুরুত্বপূর্ণ। মূল ও ছালের রস নিয়মিত ৩/৪ দিন খেলে শরীর কৃমি মুক্ত হয়ে যায়।
* এটি রক্ত সংবহণতন্ত্রের ক্ষমতাও বাড়ায়। সাজনার কচি পাতার রস নিয়মিত ব্যবধানে খেলে রক্তের উচ্চচাপ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে য়ায়। মায়ানমারের চিকিৎসকদের মতে, সাজিনার পাকা পাতার টাটকা রস দুবেলা আহারের ঠিক পূর্বে ২/৩ চামচ করে খেলে এক সপ্তাহের মধ্যে কমে যাবে। তবে যাদের ডায়াবেটিস আছে তারা এটি ব্যবহার করবেননা।
* সাজিনার শিকরের ক্বাথ ঘুৎড়িকাশি, হাঁপানি, গেটে বাত, কটি বেদনা ও সাধারণ বাত রোগে দুধের সাথে ব্যবহার হয়।
* সাজিনার পাতা বেটে রসুন, হরিদ্রা, লবন ও গোলমরিচ সহ খেলে কুকুরের বিষ্ট নষ্ট হয় এবং দুষ্টস্থানে প্রলেপ দিলে ৫/৬ দিনে ফুলা কমে যায় ও জ্বরে আরাম হয়।
* এর ছালের রস গুড়ের সাথে পান করলে শির পীড়া আরাম হয়।
* ২৫০ গ্রাম পাতার রস ১৫ গ্রাম সৈন্ধব লবনের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করলে বহূমুখে আরাম হয়।
* সাজিনা পাতা রেধে খেলে ইনফ্লুয়েঞ্জার জ্বর ও যন্ত্রনাদায়ক সর্দিতে আরাম হয়।
* সাজিনার শেকর, লেবুর রস এবং জলফলের মিশ্রন পেটফাঁপা নিবারক ও উত্তেজক।
* এর মূলের ছালের প্রলেদে দাদ কমে। তবে প্রতিদিন ব্যবহার করা উচিত নয়।
* শ্লেষ্মাঘটিত কারনে দাঁতের মাড়ি ফুলে গেলে পাতার ক্বাথ মুখে ধারন করলে ফুলা কমে যায়।
* অপুষ্টি হলো অন্ধত্বের অন্যতম কারন। অন্ধত্ব নিবারনে প্রচুর ভিটামিন এ সমৃদ্ধ সজনে পাতা খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সাস্থ্যবিদ।
* সজনে পাতার ছালের বড়ি অম্ল রোগে বিশেষ উপকারী। সজনে ছালের শাঁস, জঙ্গী হরিতকরি দানা ও যোয়ান আলাদা করে বেটে সমপরিমান একত্রে মিশিয়ে কুলের বিচির আকারে ছোট ছোট বড়ি তৈরী করে রোদে শুকাবেন। এগুলো বাটার সময় পানি না দিয়ে লেবুর রস দিবেন। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে রাতে ঘুমের আগে গরম পানি দিয়ে একটি করে বড়ি খাবেন। এতে অম্ল রোগের উপকার পাবেন। কোষ্ঠকাঠিন্য না থাকলে ঠান্ডা পানি ব্যবহার করবেন।
* শরীরের কোন অঙ্গ মচকালে বা থেতলালে আদা ও সজনে ছাল বাটা প্রলেপ দিলে উপশম হয়।
* হিক্কা হতে থাকলে ২/৪ ফোটা করে সজনে পাতার রস দুধের সাথে মিশিয়ে ২/৩ বার খাবেন।

 

 

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এস.

 

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments