ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: চিনি ছাড়া যেন অনেকের দিনই শুরু হয় না। সকালের চা থেকে কোমল পানীয়, প্যাকেটজাত জুস, বিস্কুট, সস কিংবা নানা প্রক্রিয়াজাত খাবারে অজান্তেই প্রতিদিন শরীরে ঢুকছে অতিরিক্ত চিনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার মূল কারণ মাঝেমধ্যে মিষ্টি খাওয়া নয়; বরং নিয়মিত অতিরিক্ত যোগ করা ও মুক্ত চিনি গ্রহণ। এটি ওজন বাড়ানোর পাশাপাশি ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দৈনিক মোট ক্যালোরির ১০ শতাংশের কম এবং অতিরিক্ত স্বাস্থ্যসুবিধার জন্য ৫ শতাংশেরও কম মুক্ত চিনি গ্রহণের পরামর্শ দেয়।
ভারতের অমৃতা হাসপাতালের এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগের প্রধান ডা. নিশান্ত রাইজাদা বলেন, চিনি শুধু ক্যালোরির বিষয় নয়; এটি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ, ইনসুলিনের কার্যকারিতা, যকৃতের বিপাকক্রিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি বিপাকীয় স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। কোমল পানীয়, মিষ্টি কফি বা প্যাকেটজাত জুস দ্রুত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তখন অগ্ন্যাশয় থেকে বেশি ইনসুলিন নিঃসৃত হয়। এভাবে দীর্ঘদিন চলতে থাকলে শরীর ইনসুলিনের প্রতি কম সাড়া দিতে শুরু করে, যা প্রিডায়াবেটিস ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
অতিরিক্ত চিনি শুধু রক্তে শর্করাই বাড়ায় না, লিভারের ওপরও চাপ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে ফ্রুক্টোজ বেশি গ্রহণ করলে এর একটি অংশ চর্বিতে রূপান্তরিত হয়। ফলে সময়ের সঙ্গে লিভারে চর্বি জমা, ট্রাইগ্লিসারাইড বৃদ্ধি এবং পেটের স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ে। এ কারণেই অতিরিক্ত চিনি গ্রহণকে ফ্যাটি লিভার রোগের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
দ্য বিএমজেতে প্রকাশিত একটি বড় পর্যালোচনা গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের সঙ্গে ওজন বৃদ্ধি, বিপাকীয় রোগ এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে চিনিযুক্ত কোমল পানীয় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
তবে সব ধরনের চিনি সমান ক্ষতিকর নয়। ফলের প্রাকৃতিক চিনির সঙ্গে থাকে আঁশ, ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা হজম ধীর করে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। কিন্তু ফলের জুসে আঁশ কমে যাওয়ায় অল্প সময়েই বেশি পরিমাণ চিনি শরীরে প্রবেশ করে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, গুড়, মধু, নারকেল চিনি সাদা চিনির তুলনায় খুব বেশি স্বাস্থ্যকর নয়। এগুলোতেও মূল উপাদান চিনি। তাই নাম ভিন্ন হলেও অতিরিক্ত গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য সমান ঝুঁকিপূর্ণ।
তাদের পরামর্শ, চিনি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং কোমল পানীয় ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া, জুসের বদলে আস্ত ফল বেছে নেওয়া, খাদ্যের লেবেল পড়ে চিনির পরিমাণ জানা এবং মিষ্টিজাত খাবারকে প্রতিদিনের অভ্যাস না বানিয়ে মাঝে মধ্যে সীমিত পরিমাণে খাওয়াই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম
































Recent Comments