ডেইলি শেয়ারবাজার: করোনা পরিস্থিতিতে আয়-রোজগার বন্ধ হয়েগেছে নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেনীর মানুষদের। এ পরিস্থিতির মধ্যে কোন না কোন ভাবে কাজ করে কিছু টাকা আয় করা যেতো। কিন্তু লকডাউনের কারণে বাসা থেকে বের হতে না পারায় সেই রাস্তাও বন্ধ হয়ে গেছে। এ মুহুর্তে তিন বেলা খাবার কপালে জুটেনা, গত ২০ দিন ধরে সারা দিনে দু’বেলা খেয়ে বৌ বাচ্চা নিয়ে বেচে আছি তার উপরে মাস শেষে বাড়িওয়ালা এসে বলে ’মাস শেষ বাড়ি বাড়া দেন’। কান্না কান্না কন্ঠে আব্দুল জলিল নামে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এ কথাগুলো বলেন।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ির কোনাপাড়া এলাকায় রাস্তার পাশে বসে চা ও পান বিক্রি করতেন আব্দুল জলিল। এ ছোট দোকানের বিক্রির টাকা দিয়ে চলতো তার সংসার। কিন্তু গত মাসের ২৬ তারিখ থেকে করোনার কারনে তার দোকান বন্ধ। এ অবস্থায় আয় রোজগারের বিকল্প কোন রাস্তাও নেই তার হাতে। গত এক মাস ধরে ঘরে বন্ধি। জমানো কিছু টাকা ছিলো,তা গত মাসে বাসা বাড়া দিয়ে শেষ হয়ে গেছে। গত ২০ দিন ধরে এক বেলা নয়তো কষ্ট করে এক বেলার খাবার দুবেলা খেয়ে দিন পার করছি। কয়েকবার মুদির দোকান থেকে চাল, ডাল বাকি চাইলেও দোকানধার করোনা পরিস্থিতিতে বাকি দেয়া যাবেনা বলে জানান। এ পরিস্থিতিতে নিজেদের পেট চলছেনা তার পর এখন মাস শেষের দিকে, আর কয়েকদিন পরেইতো বাড়িওয়াল এসে বলবে বাড়ি ভাড়া দেন। এখন কি করবো? এমন এক পরিস্থিতিতে আছি যে কারো কাছে ভিক্ষাও চাইতে পারবো না। কারণ আমরা নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেনীর মানুষ। সরকারের কাছে আমার আকুল আবেদন, প্রধানমন্ত্রী যেনো বাড়ি বাড়া মওকুফের নির্দেশনা দেয়।
এদিকে করোনা পরিস্থিতিতে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্তরা। তাই করোনার সময়টিতে বাড়ি ভাড়া মওকুফের দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে বাড়ির মালিকদের কেউ কেউ বলছেন, সরকারি সহায়তা কিংবা ট্যাক্স, ব্যাংক ঋণ ও বিল মওকুফ করলে বিষয়টি বিবেচনা করবেন তারা।
বৈশ্বিক মহামারি করোনায় চাপে পড়েছে নিম্ন ও মধ্য বিত্তরা। ব্যবসা প্রতিষ্টান সব বন্ধ হওয়ায় ঘরে বসে কাটছে সময়। উপার্জন না থাকায় নিম্নবিত্তরা চিন্তিত, মাস শেষে বাড়ি ভাড়া আসবে কোথা থেকে?
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে করোনা পরিস্থিতিতে ভর্তুকি দিয়ে বাড়ি ভাড়া মওকুফের দাবিতে সমাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নতুনধারা বাংলাদেশের (এনডিবি) আমরণ অনশন শুরু করেছে।
সংগঠনের চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদীর নেতৃত্বে বিভিন্ন অসঙ্গতির প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম ওয়াজেদ সরকার রানা, বাংলাদেশ মেস সংঘের মহাসচিব আয়াতুল্লাহ আখতার ও জাতীয় সাংস্কৃতিকধারার সহ-সাধারণ সম্পাদক কন্ঠশিল্পী মো. শরীফ।
মোমিন মেহেদী বলেন, নির্মম মহামারি করোনাকালে লকডাউনে আটকে পড়া কোটি মানুষকে বাড়ি ভাড়া সমস্যা সমাধানে জরুরি পদক্ষেপ না নিলে লকডাউনে অসংখ্য মানুষ হতাশায় জর্জরিত হবে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/ এম এইচ রনি
























Recent Comments