ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: ১৫ বছরের কম বয়সি শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগে বাধা দিয়েছে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আদালত। আদালত বলেছে, প্রস্তাবিত আইনটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে এবং এতে প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষার বিষয়টি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। খবর আল আরাবিয়ার।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) এক রায়ে ফ্রান্সের সাংবিধানিক পরিষদ জানায়, ১৫ বছরের কম বয়সিদের নির্দিষ্ট অনলাইন সেবা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে হলে সব ব্যবহারকারীকে—এমনকি প্রাপ্তবয়স্কদেরও—বয়স প্রমাণ করতে হবে। কিন্তু কীভাবে, কোন সীমার মধ্যে এবং কী ধরনের প্রক্রিয়ায় সেই বয়স যাচাই করা হবে, সে বিষয়ে আইনে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই।
আদালতের মতে, প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা ছাড়া এ ধরনের ব্যবস্থা ব্যক্তির স্বাধীনতা ও অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে। তাই বর্তমান আকারে আইনটি কার্যকর করা সম্ভব নয়।
এর আগে ফ্রান্সের আইনপ্রণেতারা ১৫ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছিলেন। আইনটি কার্যকর হলে অস্ট্রেলিয়ার পর ইউরোপে প্রথম দেশ হিসেবে ফ্রান্স এ ধরনের পদক্ষেপ নিত। গত ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
আদালতের সিদ্ধান্তের পর প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সরকারকে আইনটির খসড়া পুনর্লিখনের নির্দেশ দিয়েছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এলিসে প্রাসাদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাংবিধানিক পরিষদের উদ্বেগ ও পর্যবেক্ষণ বিবেচনায় নিয়ে নতুন খসড়া প্রস্তুত করা হবে।
এলিসে আরও জানিয়েছে, ২০২৭ সালের বসন্তের আগেই এই সংস্কার কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর ম্যাক্রোঁ। ওই সময়ই ফ্রান্সে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার কারণে ম্যাক্রোঁ তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন ফরাসি সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম
































Recent Comments