ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে এবার নতুন নিয়ম মেনে জাহাজ চলাচল করতে পারবে। তবে এসব নিয়ম অমান্যকারী জাহাজকে শুধু তাৎক্ষণিক শাস্তিই নয়, ভবিষ্যতেও হরমুজ প্রণালি পারাপারে বিভিন্ন বিধিনিষেধের মুখে পড়তে হতে পারে বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ ঘোষণা দিয়েছে পারস্য উপসাগরীয় শিপিং অথরিটি। সংস্থাটি জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গকারী জাহাজগুলোর একটি হালনাগাদ তালিকা তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
পিজিএসএ জানিয়েছে, তালিকায় থাকা জাহাজ শনাক্ত করতে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, তালিকার কিছু জাহাজের নাম সাধারণ মানুষের স্বেচ্ছায় দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যুক্ত করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, নিয়ম না মানা জাহাজগুলো ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিধিনিষেধের মুখে পড়তে পারে। এসব শাস্তির মধ্যে জরিমানা, জাহাজ আটক এবং জব্দ করার মতো পদক্ষেপ থাকতে পারে।
এ ছাড়া পারস্য উপসাগরে পণ্য পরিবহনে যুক্ত জাহাজমালিকদের কোনো জাহাজ চার্টার করার আগে প্রকাশিত তালিকাটি পর্যালোচনা করার পরামর্শ দিয়েছে পিজিএসএ। এতে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
পিজিএসএ আরও জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত কোনো জাহাজের সঙ্গে শিপ-টু-শিপ স্থানান্তর, ট্রান্সশিপমেন্ট বা অন্য কোনো উপায়ে সহযোগিতা করা জাহাজকেও ওই তালিকায় যুক্ত করা হবে। তালিকা থেকে কোনো জাহাজের নাম বাদ দিতে হলে সংশ্লিষ্ট জাহাজকে কারণ উল্লেখ করে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করতে হবে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলা শুরুর পর তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এরপর গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া একটি সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র প্রণালিটি ৬০ দিনের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়।
ওই সমঝোতা বাস্তবায়নের জন্য ইরান পারস্য উপসাগরীয় শিপিং অথরিটি বা পিজিএসএ গঠন করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে—এমন অভিযোগ তুলে ইরান পরে আবারও প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়।
তেহরান জানিয়েছে, কয়েকটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে না।
ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ ও অর্থনৈতিক অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক আগ্রাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং ইয়েমেনের ওপর অবরোধের পরিস্থিতি স্পষ্ট করা।
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালির দুই উপকূলীয় দেশ ইরান ও ওমান এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে একটি প্রাথমিক ব্যবস্থায় সম্মত হয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই ব্যবস্থা বাস্তবায়ন এখনো ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতি পূরণের ওপর নির্ভর করছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে এই নৌপথে জাহাজ চলাচলে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম
































Recent Comments