ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় অভিযুক্ত ময়মনসিংহের ত্রিশালের ৫ জনের বিষয়ে রায় ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায় ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের বিচারিক প্যানেল।

এ মামলায় অন্যতম আসামি ছিলেন ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য এমএ হান্নান। কারাবন্দি অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
ট্রাইব্যুনালে শুনানিতে ছিলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সিমন, রেজিয়া সুলতানা চমন ও তাপস কান্তি বল। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার, মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামিম।
২০১৫ সালের ১৯ মে এমপি হান্নানসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে একটি মামলা করা হয়। শহিদ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুর রহমানের স্ত্রী রহিমা খাতুন মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় এমএ হান্নান ছাড়াও জামায়াত নেতা ফখরুজ্জামান ও গোলাম রব্বানীকে আসামি করা হয়। তদন্তের পরে আরও ৫ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় এ মামলার আসামি করা হয় মোট ৮ জনকে।
৮ আসামিরা হলেন- ডা. খন্দকার গোলাম সাব্বির আহমদ, এমএ হান্নান ও তার ছেলে রফিক সাজ্জাদ, মিজানুর রহমান মিন্টু, মো. হরমুজ আলী, ফখরুজ্জামান, আব্দুস সাত্তার ও খন্দকার গোলাম রব্বানী।
এ মামলায় ২০১৬ সালের ১১ ডিসেম্বর এমপি হান্নানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ২০১৯ সালের ২৭ মে এ মামলার বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। বিচার শেষে ২০২২ সালের ২৩ নভেম্বর রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল।
৮ আসামির মধ্যে কারাবন্দি অবস্থায় মারা গেছেন ৩ জন। তারা হলেন, এমএ হান্নান ও তার ছেলে রফিক সাজ্জাদ এবং অপর মিজানুর রহমান মন্টু।
বাকি ৫ জন আসামির মধ্যে বর্তমানে কারাগারে আছেন ডা. খন্দকার গোলাম সাব্বির আহমদ, হরমুজ আলী ও আব্দুস সাত্তার। পলাতক আছেন ফখরুজ্জামান ও খন্দকার গোলাম রব্বানী।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, আটক, অপহরণ, নির্যাতন, গুম, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ২১ এপ্রিল থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ত্রিশাল উপজেলায় তারা অপরাধগুলো সংঘটিত করেন এমনটি অভিযোগে বলা হয়েছে।
২০১৬ সালের ১১ জুলাই হান্নানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন তদন্ত সংস্থা। এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান ২০১৫ সালের ২৮ জুলাই থেকে ২০১৬ সালের ১১ জুলাই পর্যন্ত তদন্ত কাজ সম্পন্ন করেন।
এরপর একই বছরের ১ অক্টোবর প্রসিকিউশনের আবেদনক্রমে এ মামলার ৮ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে ওই দিনই ঢাকায় গ্রেফতার হন এমএ হান্নান ও তার ছেলে রফিক সাজ্জাদ।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/ই.

































Recent Comments