সোমবার, ৩০শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeঅর্থনীতিঅর্থনীতির ধীরগতিতে বাড়তে পারে দারিদ্র্য
spot_img
spot_img

অর্থনীতির ধীরগতিতে বাড়তে পারে দারিদ্র্য

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং একই সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতিতে ধীরগতির কারণে বাংলাদেশে দারিদ্র্য বাড়তে পারে। খাদ্যপণ্যে মূল্যবৃদ্ধি এবং বিশ্ব অর্থনীতির ধীরগতি– এই দুই কারণে এ বছর বাংলাদেশে অতিরিক্ত ১ দশমিক ৭ শতাংশ নতুন দরিদ্র যুক্ত হতে পারে।

বৈশ্বিক খাদ্যমূল্যের ধাক্কা ও খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক কর্ম অধিবেশনে এক গবেষণা প্রবন্ধে এমন প্রাক্কলন করা হয়। ‘২০১৯ থেকে বৈশ্বিক সংকট: বাংলাদেশের কৃষিজ খাদ্যপণ্যে প্রভাব’ বিষয়ে এ প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (আইএফপিআরআই) প্রতিনিধি আঙ্গা প্র্যাডেসা।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের বার্ষিক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের প্রথম এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন আইএফপিআরআইর পরিচালক পল ডরস। বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেনসহ কয়েকজন অর্থনীতিবিদ এ অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।

আঙ্গা প্র্যাডেসা প্রবন্ধে বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির ধীরগতির কারণে ২০২২ সালে বাংলাদেশে আশঙ্কার তুলনায় দারিদ্র্য বেড়েছে অতিরিক্ত ২৮ লাখ। চলতি বছর শেষে এ সংখ্যা ৩৩ লাখে ঠেকতে পারে। বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের অতিরিক্ত মূল্যের কারণে এসব পরিবারে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। এতে অপুষ্টির শিকার হতে পারে ২ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ। এদের একটি বড় অংশই গ্রামীণ দারিদ্র্য। আঙ্গা প্র্যাডেসা বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির ধীরগতি এ বছর দারিদ্র্য পরিস্থিতিকে আরও বেগতিক করে তুলতে পারে।

আলোচনায় আইএফপিআরআইর জ্যেষ্ঠ গবেষক ড্যানিয়েল রেনসিক বলেন, আগামী বছরের শুরুতে অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন ইস্যুতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন যে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ড. বিনায়ক সেন বলেন, এ ধরনের শঙ্কার কথা তিনি কেন বলছেন। জবাবে ড্যানিয়েল রেনসিক বলেন, তারা এ ধরনের পদক্ষেপ চান না। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে এ ধরনের কথা শোনা যাচ্ছে, নির্বাচনের পর এ রকম কিছু হতে পারে।

কর প্রদান ঝামেলামুক্ত হওয়া উচিত-

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের কর কাঠামোর ওপর এক অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বলেন, করদাতাদের জন্য নির্বিঘ্নে কর দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কর প্রদান ঝামেলামুক্ত হওয়া উচিত। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, আগে সংস্কার করতে হবে কর প্রশাসনে। ‘রিফান্ড’ না পেলে ভ্যাট ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ অধিবেশনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মন্ট্রিয়লের কনকর্ডিয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সৈয়দ মইনুল আহসান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে গত ৩৫ বছরে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৭ গুণ, অথচ কর-জিডিপি অনুপাত একই রকম রয়ে গেছে। সুতরাং আয় কম বলে কর সংগ্রহ কম– এমন যুক্তি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে চলে না। অর্থনীতির আকার প্রতি বছর বাড়ছে, কিন্তু কর কাঠামো একই জায়গায় রয়ে গেছে। বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ করের ওপর নির্ভরতা অনেক কম। এ উৎস থেকে কর সংগ্রহ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

তিনি মনে করেন, সরকারকে কর আদায় বাড়াতে গেলে জনসাধারণকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে, তাদের অর্থ তাদের কাজেই যথাযথভাবে ব্যয় হবে। অনানুষ্ঠানিক খাতের কার্যক্রম ব্যাংকসহ আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যত বেশি সংযুক্ত করা যাবে, কর সংগ্রহের ক্ষেত্রে তত সুবিধা হবে।

 

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments