শুক্রবার, ২৭শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeঅন্যান্যঘরের পাশে বস্তায় আদা চাষে সাফল্য
spot_img
spot_img

ঘরের পাশে বস্তায় আদা চাষে সাফল্য

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের নূনাছরা গ্রামের বাসিন্দা আবু তাহের পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে কলেজ জীবনেই পাড়ি জমান দুবাইতে। দালালের হাতে প্রতারণার শিকার হয়ে এক বছর পর ফিরে আসেন দেশে। দেশে এসে চাকরি নেন গার্মেন্টে। যে বেতন পেতেন তাতে নিজের খরচই চলত না। সেই চাকরি ছেড়ে যুক্ত হন কৃষি কাজে। উপজেলা কৃষি অফিস এবং মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের সহযোগিতায় আধুনিক পদ্ধতিতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও আদার চারা উৎপাদন শুরু করেন তিনি। পাশাপাশি ১০০ জিও ব্যাগে আদা চাষ করেন।

বাড়ির আশপাশে নিচু পতিত জমিতে বস্তায় আদা চাষের মাধ্যমে তিনি নতুন স্বপ্ন দেখছেন। আবু তাহের বলেন, প্রতি বস্তায় চার কেজি আদা উৎপাদন হবে। সামনে এক হাজার বস্তায় আদা চাষের পরিকল্পনা তাঁর।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ডাকালীবান্ধার সমসের উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক রুবেলও একই পথ অনুসরণ করছেন। অবসর সময়ে বাড়ির পাশে সুপারি বাগানে বাড়তি কোনো ফসল ফলানো যায় কিনা তা নিয়ে ভাবতে থাকেন। প্রথমে ইউটিউবে বিভিন্ন ভিডিও দেখে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ নেন। পরে তিনি সুপারি গাছের ফাঁকে ফাঁকে ৪০ শতক জমিতে বস্তায় আদা চাষ শুরু করেন। এখন ২ লাখ টাকা খরচের বিপরীতে আদা চাষে প্রায় ৭ লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন তিনি।

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার পার্টিচড়া ইউনিয়নের পার্টিআমলাই গ্রামের নারগিস আক্তার বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে ব্যাগিং পদ্ধতিতে বস্তায় মাটি ভরাট করে আদা লাগাতে শুরু করেছেন। নিজের শ্রমেই তিনি গড়ে তুলেছেন সাড়ে ১৪ হাজার বস্তার আদার ক্ষেত। প্রকল্প থেকে পান ৫০০ বস্তা। ১৪ হাজার বস্তায় দেড় টনেরও বেশি আদা উৎপাদনের আশা তাঁর।

নারগিস বলেন, ঘরের আশপাশে অনেক জায়গা খালি পড়ে আছে। সেখানে বস্তায় আদা চাষের মাধ্যমে গ্রামের অনেকেই এখন নতুন স্বপ্ন বুনছেন। রোপণের মাত্র তিন মাসের মাথায় গাছগুলোতে আদা আসতে শুরু করেছে বলে জানান তিনি।

সারাদেশে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘ব্যাগিং পদ্ধতি’– অর্থাৎ বস্তায় মাটি ভরাট করে আদা চাষ। ফলন ভালো হওয়ায় দিন দিন এ পদ্ধতিতে আদা চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমিত খরচ, কম জায়গা আর অল্প শ্রমে বস্তায় আদা চাষ করা যায়। আদা গাছে পানির চাহিদা অনেক কম। সার বা কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় সীমিত। মাঝেমধ্যে পাতামরা রোগ প্রতিরোধে কিছু ওষুধ স্প্রে করতে হয়। এর বাইরে তেমন পরিচর্যা লাগে না।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্যমতে, দেশে আদার চাহিদা বছরে ৪ লাখ ৮১ হাজার টন। গত বছর উৎপাদন হয় ২ লাখ ২৪ হাজার টন। বাকিটা আমদানি করতে হয়। গত অর্থবছরে ১৬ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আদা চাষ হয়েছে।

মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিচালক রাসেল আহমেদ বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে বস্তায় আদা চাষ জনপ্রিয় করতে মাঠ পর্যায়ে প্রদর্শনী হচ্ছে। এটি ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ হলে আদার চাহিদা পূরণ হবে। বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। আদার মোট উৎপাদনের সঙ্গে ৫ শতাংশ যোগ হবে।

ডেইলি শেয়ারবাজার  ডটকম/এম আর.

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments