ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: সপ্তাহের শুরুতেই বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার খবর এবং ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দেওয়ার দাবির পর আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে দাম বেড়েছে, আর চাপে পড়েছে বিশ্ব শেয়ারবাজার।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে এশিয়ার বেশিরভাগ শেয়ারসূচক নিম্নমুখী ছিল। একই সঙ্গে নতুন করে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা জোরালো হয়েছে।
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে মুদ্রা ও বন্ডবাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অনিশ্চয়তার মধ্যে নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা। এতে মার্কিন ডলারের মূল্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ আবারও বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার আরও বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারে। এ অবস্থায় মঙ্গলবার ফেডের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের মার্কিন কংগ্রেসে প্রথম বক্তব্যের দিকে নজর রয়েছে বিশ্ববাজারের।Economics
এদিকে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের জুন মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। জ্বালানির দাম আগের কয়েক সপ্তাহে কিছুটা কম থাকায় মূল্যস্ফীতিতে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করায় সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম।
সোমবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ দশমিক ১১ ডলারে পৌঁছেছে। কয়েক দিন আগেও এর দাম ছিল ৭০ দশমিক ১৪ ডলার। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৪ দশমিক ৩৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে উদ্বেগের মধ্যেই মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ২০টি জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে প্রণালি অতিক্রম করানো হয়েছে। তবে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই রুটে এখনো স্বাভাবিক নৌযান চলাচল পুরোপুরি ফিরেনি।
এদিকে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন বড় বড় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ফলাফলের দিকে। মঙ্গলবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যাংকগুলো চলতি প্রান্তিকের আয়-ব্যয়ের প্রতিবেদন প্রকাশ শুরু করবে। এরপর নেটফ্লিক্স, জেনারেল ইলেকট্রিকসহ বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানও তাদের আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করবে।
বিশ্লেষকদের আশা, করপোরেট মুনাফার ইতিবাচক তথ্য বাজারের উদ্বেগ কিছুটা কমাতে সহায়তা করতে পারে।
বিনিয়োগ ব্যাংক সিটির বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি খাত বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) কোম্পানিগুলোর দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা এখনো শক্তিশালী। তাদের ভাষ্য, এ খাতে স্বল্পমেয়াদি অস্থিরতা থাকলেও আয় ও মূল্যায়ন উভয়ই ইতিবাচক রয়েছে।
তবে সপ্তাহের শুরুতে সেই আশাবাদের প্রতিফলন শেয়ারবাজারে দেখা যায়নি। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও নাসডাক ফিউচার সূচক নিম্নমুখী ছিল। ইউরোপের প্রধান শেয়ারসূচকের ফিউচারও কমেছে। জাপানের নিক্কেই সূচক টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে বড় পতনের মুখে পড়েছে। পাশাপাশি জাপান ছাড়া এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এমএসসিআই সূচকও নিম্নমুখী হয়েছে।
গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় নেমে এসেছিল। তবে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় সেই ধারা বদলে গেছে। বর্তমানে তেলের দাম ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ বেশি।
অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এক্সঅ্যানালিস্টসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান তেলবিশ্লেষক মুকেশ সহদেবের মতে, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় আগস্ট ও সেপ্টেম্বরজুড়ে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারের ওপরে থাকতে পারে।
তিনি বলেন, এ সময় দামে ওঠানামা থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই থাকবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রবণতাও আরও জোরদার হতে পারে।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান আইজির বাজার বিশ্লেষক ফ্যাবিয়েন ইয়িপ মনে করেন, বর্তমান উত্তেজনা সত্ত্বেও তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়ানোর সম্ভাবনা তুলনামূলক কম।
এদিকে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বন্ডবাজারেও। যুক্তরাষ্ট্রের দুই বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ২০২৫ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে মার্কিন ডলার আরও শক্তিশালী হয়েছে।
অন্যদিকে বন্ডের সুদহার বাড়ায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার আকর্ষণ কিছুটা কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ১ শতাংশের বেশি কমে ৪ হাজার ৭৬ ডলারে নেমে এসেছে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ






























Recent Comments