ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: বর্ষাকালে গরম থেকে স্বস্তি মিললেও বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ফুসফুসে ফাঙ্গাল বা ছত্রাকজনিত সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। বিশেষ করে যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল কিংবা আগে থেকেই শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি আরও বেশি। এমন তথ্য জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস। এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন ভারতের পুনের রুবি হল ক্লিনিকের জেনারেল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. গীতাঞ্জলি পাটিল।
ডা. গীতাঞ্জলি পাটিল জানান, আর্দ্র ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ছত্রাক দ্রুত বৃদ্ধি পায়। বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ছত্রাকের অতিক্ষুদ্র স্পোর বা বীজাণু সহজেই বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।
এ ছাড়া স্যাঁতসেঁতে দেয়াল, পানি চুইয়ে পড়া ঘর, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল না থাকা কক্ষ, ভেজা কার্পেট ও কাঠের আসবাবপত্রে সহজেই ছাঁচ জন্মায়। বৃষ্টির সময় পচে যাওয়া পাতা, মাটি ও অন্যান্য জৈব পদার্থ থেকেও বিপুল পরিমাণ ছত্রাকের স্পোর বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।
সুস্থ মানুষের শরীর সাধারণত এসব স্পোর প্রতিরোধ করতে পারে। তবে যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, তাদের ফুসফুসে এসব স্পোর সংক্রমণ ঘটাতে পারে। বর্ষাকালে মানুষ তুলনামূলক বেশি সময় ঘরের ভেতরে থাকেন। ঘরে যদি ছাঁচ থাকে বা পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল না হয়, তাহলে বাতাসে ছত্রাকের স্পোরের ঘনত্ব আরও বেড়ে যায়, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।
যাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি
চিকিৎসকের মতে, নিচের ব্যক্তিদের মধ্যে ফাঙ্গাল ফুসফুস সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি—
অ্যাজমা রোগী
দীর্ঘমেয়াদি অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) আক্রান্ত ব্যক্তি
অ্যালার্জিক রাইনাইটিসে ভোগা মানুষ
নিয়ন্ত্রণে না থাকা ডায়াবেটিস রোগী
কেমোথেরাপি নিচ্ছেন এমন রোগী
দীর্ঘদিন স্টেরয়েড সেবনকারী ব্যক্তি
অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা রোগী এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধক্ষমতার মানুষ।
তিনি বলেন, ফাঙ্গাসের স্পোর শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে শ্বাসনালিতে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। এমনকি অ্যালার্জিক ব্রঙ্কোপালমোনারি অ্যাসপারজিলোসিস (এবিপিএ)-এর মতো জটিল রোগও হতে পারে। এতে তীব্র কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং শোঁ শোঁ শব্দে শ্বাস নেওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
এ ছাড়া বর্ষাকালে ভাইরাসজনিত শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণও বেশি হয়। এসব সংক্রমণ সাময়িকভাবে শ্বাসনালির স্বাভাবিক প্রতিরোধব্যবস্থা দুর্বল করে দেয়, ফলে ছত্রাক সহজেই সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
ডা. গীতাঞ্জলি পাটিল জানান, অ্যাসপারজিলাস সবচেয়ে পরিচিত ক্ষতিকর ছত্রাকগুলোর একটি। এটি স্যাঁতসেঁতে দেয়াল, পুরোনো গাছপালা এবং ছাঁচ ধরা বিভিন্ন স্থানে জন্মায়।
এ ছাড়া মিউকোরেলস নামের ছত্রাক মাটি ও পচনশীল জৈব পদার্থে থাকে। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল মানুষের ক্ষেত্রে এটি গুরুতর সংক্রমণের কারণ হতে পারে।
ফাঙ্গাল ফুসফুস সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে ডা. গীতাঞ্জলি পাটিল কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ঘর যতটা সম্ভব শুকনো রাখতে হবে। দেয়াল বা ছাদে পানি চুইয়ে পড়লে দ্রুত মেরামত করতে হবে। ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং স্যাঁতসেঁতে বা ছত্রাকযুক্ত পরিবেশে দীর্ঘ সময় অবস্থান করা উচিত নয়।
তার মতে, বর্ষাকালে ঘরের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে ফাঙ্গাল ফুসফুস সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকাংশেই কমানো সম্ভব।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম






























Recent Comments