শনিবার, ২৮শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeঅন্যান্যইছামতির ভাঙনে জমি কমছে দেবহাটা সীমান্তে
spot_img
spot_img

ইছামতির ভাঙনে জমি কমছে দেবহাটা সীমান্তে

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: সীমান্ত নদী ইছামতির ভাঙনের কবলে পড়ে সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্তে জমি দিন দিন কমে যাচ্ছে। ভারতের সীমানায় ঢুকেছে বাংলাদেশ অংশ। ফলে হুমকিতে পড়েছে বাংলাদেশের মানচিত্র। প্রতিরোধে কোনো উদ্যোগ নেই স্থানীয় প্রশাসনের। নদীভাঙন রোধ ও দেশের সীমা রক্ষায় জরুরি উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করেছে এলাকাবাসী।

জানা গেছে, বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্ত নদী ইছামতি। এখন স্পষ্ট বোঝা যায় দুই তীরের পার্থক্য। ভারতের পরিকল্পিত নদীশাসনে বাংলাদেশ অংশে ভাঙন চলছে প্রতিনিয়ত। এতে নিঃস্ব হচ্ছে নদীতীরবর্তী মানুষ। আর নদীটি সীমান্তবর্তী হওয়ায় মানুষ শুধু যে ভিটে-মাটিই হারাচ্ছে তা নয়- জমি হারাচ্ছে দেশ, আর এই ভাঙনের ফলে পাল্টে যাচ্ছে দেশের মানচিত্র। সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার দেবহাটা, খানজিয়া, রাজনগর, ভাতসালা ও কোমরপুর গ্রাম থেকে এরই মধ্যে কয়েকশ বিঘা জমি ইছামতির ভাঙনে ভারতের অংশে চলে গেছে। সবচেয়ে বেশি গেছে রাজনগর মৌজার জমি। বিশেষ করে দেবহাটার মিনি সুন্দরবনের বিপরীত অংশে এবং ভাতশালা এলাকায় নদীসহ ভারতের মধ্যে গড়ে ওঠা বনায়নের কিছু অংশও বাংলাদেশের ভূখণ্ড বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
দেবহাটার টাউনশ্রীপুর গ্রামের ফারুক মাহবুবুর রহমান জানান, তিনিসহ এলাকার লোকজন নদীর মধ্যে চলে যাওয়া জমিতে এক সময় ফুটবল খেলেছেন। অনেক স্থাপনা দেখেছেন এখন সেখানে কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট নেই।
তিনি বলেন, ‘ইছামতি নদীর দেবহাটা এলাকার বিপরীতে ভারতীয় অংশে স্পষ্ট যে, নদী ভেঙে বাংলাদেশ যতটা ভূখণ্ড হারাচ্ছে ভারত অংশে ততটাই বাড়ছে জমি। বাংলাদেশ অংশে প্রতিদিন নদী ভেঙে শত শত বিঘা জমি চলে যাচ্ছে ইছামতির গর্ভে।’
এ বিষয়ে দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইয়ানুর রহমান বলেন, ভাঙন এলাকার নদীর পাড় স্থাপন করার জন্য আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলেছি।’
আমাদের অনেক জমি নদীগর্ভে চলে গেছে বলে স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন-কানুন রীতিনীতি মেনে সার্বিক চিত্র তুলে ধরে বিষয়টি জেলা প্রশাসনসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনার উদ্যোগ নেয়া হবে। তবে কী পরিমাণ জমি আমরা হারিয়েছি তার কোনো হিসাব উপজেলা প্রশাসনের কাছে নেই।’
দেবহাটা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মুজিবর রহমান বলেন, ‘খানজিয়া থেকে কোমরপুর পর্যন্ত সবখানেই কমবেশি নদী ভেঙেছে। দেবহাটার রাজনগর মৌজাটা আর নেই।’
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড, পওর বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সালাহউদ্দীন বলেন, ‘নদীভাঙনের ফলে দেবহাটা উপজেলার সাড়ে তিন কিলোমিটার এলাকার ছয়টি পয়েন্ট নদীভাঙন হয়েছে। নদীটি সীমান্তবর্তী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের ফলে অনেক এলাকায় আমরা জমি হারিয়েছি। বর্তমানে ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়েছে। স্থায়ী বাঁধ ছাড়া এর সমাধান করা সম্ভব নয়।’
ডেল্টা প্রকল্পের আওতায় নদীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। নদী ভেঙে হারিয়ে যাওয়া জমি ফেরত আনার বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত ছাড়া সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

 

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments